সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন!

সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন!

84 / 100

#সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন: ইউটিউবে কিংবা ফেসবুক পেজে ভিডিয়ো কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে গেলেই আমাদের অবশ্যই অবশ্যই যেকোনো একটা ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশনের প্রয়োজন পড়ে। কারণ আমরা ভিডিয়ো শ্যুট করে কিংবা রেকর্ড করে সাথে সাথেই ইউটিউবে কিংবা ফেসবুকে আপ্লোড দিয়ে ফেলতে পারি না। আপ্লোড দেওয়ার আগে ভিডিয়োগুলো ইডিট করে, কাটছাট করে, সুন্দর করে তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে।

তো, নতুন যারা ভিডিয়ো কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে আসে, অনেকেই টেনশনে পড়ে যায়, ভিডিয়ো কীভাবে ইডিট করবে, কোন অ্যাপ ব্যবহার করা বেস্ট হবে; এসব নিয়ে। তাদের জন্যই মূলত আমার আজকের এই পোস্ট। এই পোস্টে আমরা সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। পোস্টের একেবারে শেষে জানাব বিগিনারদের জন্য কোন অ্যাপটা ব্যবহার করা বেস্ট হবে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন:

অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো:

প্রিমিয়ার প্রো হলো বিখ্যাত অ্যাডোবি কোম্পানির ভিডিয়ো ইডিটিং সফটওয়্যার / কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন। এটাকে ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপের রাজা বললেও ভুল হবে না। পৃথিবীতে ইউটিউব ভিডিয়ো, ফেসবুক ভিডিয়ো, নাটক, সিরিজ থেকে শুরু করে হলিউড-বলিউডের মুভি পর্যন্ত যত প্রফেশনাল ভিডিয়ো আছে, সবকিছুই ইডিট করা হয় এই অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো দিয়ে। অ্যাডোবির অন্যান্য সব পিসি সফটওয়্যারের মতো এটিও একটা প্রিমিয়াম / পেইড সফটওয়্যার। আপনি যদি অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রোর কাজ আয়ত্ব করে ফেলতে পারেন, তাহলে শুধু নিজের ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ফেসবুক পেজের জন্য ভিডিয়ো ইডিট করবেন তা কিন্তু না, বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজে কিংবা বড়ো কোম্পানিতে ভিডিয়ো ইডিটিং এর কাজ করেই মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। [একটু হালকা ধারণা দিই: একটা ৫-৭ মিনিটের মিউজিক ভিডিয়ো ইডিটিং এর জন্য বাংলাদেশি প্রোডাকশন কোম্পানিগুলো গড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা দেয়। একটা ৪০-৫০ মিনিটের নাটকের জন্য গড়ে প্রায় ৮০ হাজার – ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেয়।] এই সফটওয়্যারটা কিছুটা ভারী [বড়ো সাইজের], তাই স্মুথলি কাজ করার জন্য আপনার হাই কনফিগারেশনের ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ লাগবে।

ক্যামতেশিয়া:

ক্যামতেশিয়াও প্রিমিয়ার প্রোর মতো অ্যাডভান্স লেভেলের প্রিমিয়াম ভিডিয়ো ইডিটিং সফটওয়্যার বা পিসি অ্যাপ্লিকেশন। তবে মানের দিক দিয়ে প্রিমিয়ার প্রোর চেয়ে কিছুটা নিচে অবস্থান করছে। তবে আপনি ক্যামতেশিয়া এক্সপার্ট হয়ে গেলে, এটা দিয়েও হাই কোয়ালিটি ভিডিয়ো ইডিটিং করতে পারবেন। আর ক্যামতেশিয়া দিয়ে ইডিটিং সার্ভিস দিয়েও অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। ক্যামতেশিয়ায় কাজ করার জন্য আপনার পিসির কনফিগারেশন মিডিয়াম মানের হলেই চলবে। আর ক্যামতেশিয়ার ফিচারগুলো প্রিমিয়ার প্রোর চেয়ে কিছুটা সহজও বটে।

মোভাভি:

মোভাভি হলো সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে হালকা, বিগিনার ফ্রেন্ডলি প্রিমিয়াম ভিডিয়ো ইডিটিং সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন। আমি প্রায় ৩ বছর যাবত মোভাভি দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। আমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ৯৯% ভিডিয়োই মোভাভি দিয়ে ইডিট করা। মোভাভিকে ভালোবেসে আমি নাম দিয়েছি ‘গরিবের প্রিমিয়ার প্রো’। গরিবের সফটওয়্যার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এটার ফিচার প্রিমিয়াম প্রো কিংবা ক্যামতেশিয়ার তুলনায় অনেক কম আর কোয়ালিটিও কিছুটা লো। কিন্তু হ্যান্ডি সফটওয়্যার হিসেবে বেশ ভালোই কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। শুরুতে প্রিমিয়ার প্রো কিংবা ক্যামতেশিয়া দিয়ে মাথা পাগল না করে, ট্রাই করতে পারেন মোভাভি।

কাইনমাস্টার:

যাদের ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ নেই, তারা কি ভিডিয়ো বানাবে না, ইডিট করবে না? অবশ্যই করবে। পিসিহীন মোবাইলওয়ালাদের পছন্দের নাম কাইনমাস্টার। এটা কোনো পিসি সফটওয়্যার না; বরং মোবাইল অ্যাপ। মোবাইলওয়ালাদের পিসির মতো ভিডিয়ো ইডিটিং অনুভূতি এনে দিতে কাইনমাস্টারের যাত্রা। গুগল প্লে স্টোরে কাইনমাস্টার ফ্রি ভার্সন, প্রো ভার্সন দুটোই পাবেন। ফ্রি ভার্সনে অনেক ফিচার থাকে না এবং ইডিট করা ভিডিয়োতে কাইনমাস্টারের ওয়াটারমার্ক থেকে যায়। এজন্য প্রো ভার্সনই বেস্ট। অনেকে তো কাইনমাস্টারকে এতটা ভালোবাসে যে, পিসিতে সিমুলেটর সফটওয়্যার দিয়ে কাইনমাস্টার ব্যবহার করতে থাকে ইডিটিং করার জন্য! যাই হোক, আপনার যদি পিসি না থাকে, ভিডিয়ো ইডিটিং এর জন্য কাইনমাস্টারের বিকল্প নেই। আর কাইনমাস্টারের ইডিটিং কোয়ালিটি অনেকটা ক্যামতেশিয়া লেভেলের!

**********

আশা করি, সবাই সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেছেন। এবার আসি, আপনি ইডিটিং-এ একেবারে নতুন হলে এই ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ থেকে কোন সফটওয়্যার / অ্যাপটি ব্যবহার করা উচিত সে ব্যাপারে!

পোস্ট পড়ে সম্ভবত অনেকেই বুঝতে পেরেছেন; তারপরও আমি আবার লিখছি। আপনি একেবারে বিগিনার হলে মোভাভি দিয়ে শুরু করতে পারেন, কারণ মোভাভি একদম বিগিনার-ফ্রেন্ডলি, এর ফিচারগুলো খুব সহজেই ক্যাচ করা যায়। আর আপনার যদি পিসি না থাকে, শুরু করার জন্য কাইনমাস্টারের কোনো বিকল্প নেই।

শেষ করব একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে। ওপরের ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং টুলই হলো প্রিমিয়াম / পেইড। এগুলোর খরচ বহন করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই অনেকে ফ্রিতে ক্র্যাক ভার্সন ব্যবহার করে। সংগত কারণে গুগল পলিসির জন্য আমি এই পোস্টে কোনো ক্র্যাক বা নালড লিংক দিতে পারছি না। এগুলোসহ আরও অন্যান্য সফটওয়্যার পেতে চাইলে, ‘ডিজিটাল মার্কেটিং কমিউনিটি’ গ্রুপে যুক্ত হোন। এ ধরনের আরও পোস্ট পড়তে আমার এই সাইটে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।

Share With Love:

3 thoughts on “সেরা ৪টি ভিডিয়ো ইডিটিং অ্যাপ্লিকেশন!”

  1. Pingback: বিবর্তন | সাহিত্য, অন্যান্য, গল্প, মুক্তকথা | Badhon

  2. Pingback: ১৫ হাজার টাকা বাজেটে সেরা ৩টি স্মার্টফোন! | রিভিউ | Badhon

  3. Pingback: টেকনিক্যাল বনাম অনপেইজ এসইও! | টেক | Badhon

মন্তব্য করুন: